দুর্গাপূজার উৎসব, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা আর নগর উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রংপুরে। আগামী ২০ অক্টোবর নগরীর ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনে তাঁর আসার কথা রয়েছে। এ সফরকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি রাজধানীর বাইরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের এ উদ্যোগকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রংপুরের ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। শনিবার রাতে সেখানে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন মিলনমেলায়।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, রাজধানীর বাইরে এসে সরকারপ্রধানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। তাঁদের প্রত্যাশা, এই সফরের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
সাধারণত দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সরকারপ্রধানের ঢাকার শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনের নজির রয়েছে। তবে এবার রাজধানীর বাইরে রংপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্যোগকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশা, এই সফর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
নগর উন্নয়নের প্রকল্প ঘিরেও আশাবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসাহের পাশাপাশি রংপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা চলছে। নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে সম্প্রতি দুটি প্রকল্প অনুমোদনের খবরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
গত ৭ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রংপুর নগরীর উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৮১৩ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদনের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটির মধ্যে রয়েছে রংপুর নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান সড়কগুলোর পুনর্বাসন ও আধুনিকায়ন। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর সড়ক যোগাযোগ, ভাঙাচোরা রাস্তা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভোগান্তিতে থাকা বাসিন্দারা প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিক দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, বাড়বে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সফর ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং নগর উন্নয়নের প্রকল্প অনুমোদন—দুই বিষয়কে ঘিরে রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ বাসিন্দারা সফরটিকে ঘিরে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রংপুরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রংপুর অঞ্চলের প্রতি বিশেষ মনোযোগের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর মতে, সফরটির মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি রংপুরের উন্নয়ন কার্যক্রমেও নতুন গতি আসবে বলে মানুষের প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের মতে, একটি ধর্মীয় উৎসবে সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; বরং এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে রংপুরের উন্নয়নসংক্রান্ত প্রত্যাশাগুলোও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক সংহতি ও নগর উন্নয়ন এই তিন বিষয় সামনে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সফর পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি রংপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
